Global Header Bottom
নারীদের উদ্যোক্তা হতে হবে

নারীদের উদ্যোক্তা হতে হবে

নারীদের উদ্যোক্তা হতে হবে

আমাদের দেশে অনেক শিক্ষিত নারী উচ্চশিক্ষা লাভ করার পরেও কর্মজীবনে নেই| এই না থাকার পেছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে| অনেকে হয়তো চাকরি পাচ্ছে না| কেউ হয়তো পরিবার থেকে চাকরি করার অনুমতি পাচ্ছে না| আবার কারও মধ্যে চাকরি করার প্রতি অনীহা থাকতে পারে| কেউ হয়তো সন্তানদের পড়ালেখার কথা চিন্তা করে চাকরি করার ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও চাকরি করছে না| এর বাইরেও পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে অনেকে হয়তো চাকরি করার সুযোগ পায়নি| কারণ যেটাই হোক না কেন আমাদের দেশের অসংখ্য নারী চাকরির বাজারে নেই, এটাই বাস্তব সত্য| এই বাস্তবতা আমাদের জন্য সুখকর কোনো বিষয় নয়| কারণ এরা কোনো কর্মের সাথে যুক্ত না থাকার কারণে আমাদের অর্থনীতিতে তাঁদের কোনো অবদান নেই| আমাদের জিডিপিতে তাঁদের কোনো অবদান নেই| এটা আমাদের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ভালো কোনো বিষয় নয়| পৃথিবীর যে দেশগুলোর জিডিপি ভালো, অর্থনীতির আকার বড়, ওই দেশগুলোতে পুরুষ এবং নারীরা সমানতালে কাজ করছে| অথচ আমাদের দেশের অসংখ্য নারী ঘর-সংসার করেই জীবন পার করে দিচ্ছে| ফলে অনেক পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা সারাজীবনের সঙ্গী| এই সংসারগুলোর আর্থিক দুর্বলতার কারণে সমস্যার কোনো অন্ত নেই| অথচ এই নারীরা যদি উৎপাদনমুখী কাজের সাথে যুক্ত থাকত তাহলে শুধু পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা বৃদ্ধি পেতো না, একইসাথে দেশের অর্থনীতি এবং জিডিপি শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ পেতো|


নারীদের কর্মে যুক্ত হওয়ার জন্য চাকরিই করতে হবে আমি এমন কথা বলছি না| নারীরা ইচ্ছে করলে ঘরে বসেও আয়ের পথ উন্মুক্ত করতে পারে| তাঁরা নারী-উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে| ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে| এখন অনলাইনের যুগ| প্রযুক্তির যুগ| অনেকে অনলাইনে হরেক-রকম পণ্য বিক্রি করছে| একজন নারী ইচ্ছে করলে অনলাইনে পণ্য বিক্রির কথা চিন্তা করতে পারে| কসমেটিক্স, পারফিউম, পোশাক, বেডকভার, বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রীসহ অসংখ্য পণ্য এখন অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে| একজন নারী ইচ্ছে করলে একটি পণ্য নিয়ে ব্যবসা শুরু করতেই পারে|


অনেকের ধারণা ব্যবসা করতে হলে অনেক পুঁজি লাগে| ধারণাটি সম্পূর্ণ সঠিক নয়| এমন অনেক পণ্য রয়েছে যেগুলো নিয়ে ব্যবসা করার জন্য বেশি টাকার প্রয়োজন নেই| আবার কোনো কোনো পণ্য নিয়ে ব্যবসা করতে কোনো পুঁজির প্রয়োজন নেই| একজন নারী যদি এমন কোনো পণ্য বাছাই করে যেটা তাঁর পরিচিত কোনো উৎস থেকে সংগ্রহ করা সম্ভব এবং বিক্রির পর টাকা পরিশোধ করতে পারবে, এমন হলো তো তাঁর কোনো মূলধনের প্রয়োজন নেই| তিনি পণ্য সংগ্রহ করবেন এবং বিক্রির পর টাকা পরিশোধ করবেন| এই বেচাকেনার মধ্যে তাঁর মুনাফা বা কমিশন লুকিয়ে থাকবে|


একজন নারী তখনই ব্যবসায়ী বা উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবে যখন তাঁর মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য অদম্য ইচ্ছাশক্তি কাজ করবে| ইচ্ছাশক্তি যদি দুর্বল হয় তাহলে তাঁর পক্ষে কিছু করা সম্ভব হবে না| আমি মনে করি একজন নারী যদি দুটি বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করতে পারে তাহলে তাঁর পক্ষে ব্যবসায়ী বা উদ্যোক্তা হওয়া কঠিন হবে না| দুটি বিষয়ের মধ্যে প্রথমটি হলো তাঁর অদম্য ইচ্ছাশক্তি| আর দ্বিতীয়টি হলো তাঁকে কোনো না কোনো কাজে পারদর্শী হতে হবে| তিনি যদি মনে করেন ব্যবসা করবেন না, উদ্যোক্তা হবেন, তাহলে যেকোনো একটি কাজে তাঁকে পারদর্শী হতে হবে| হতে পারে তিনি হস্তশিল্পের কোনো একটি কাজ ভালো পারেন, অথবা পারেন না| কিন্তু তিনি যদি কোনো একটি কাজ ভালোভাবে আয়ত্ত করতে পারেন তাহলে সেটাই তিনি বিক্রির চেষ্টা করতে পারেন| আমি খুব সাধারণ একটি উদাহরণ দিচ্ছি| বাজারে পুরোনো সুন্দর সুন্দর কাচের বোতল কিনতে পাওয়া যায়| কেউ যদি ওই বোতল কিনে তার মধ্যে বিশেষ কোনো পেইন্টিং করতে পারে তাহলে ওই বোতলই অনেকের কাছে আকর্ষণীয় মনে হবে| ওই বোতল তিনি অনলাইনে বিক্রি করতে পারেন| এটাতো আমি একটি সাধারণ উদাহরণ দিলাম| কিন্তু যিনি কাজটি করতে ইচ্ছুক তাঁর মধ্যে যদি প্রবল ইচ্ছাশক্তি থাকে তাহলে তিনি অনেক ধরনের আইডিয়া খুঁজে পাবেন| সমস্যা হলো আমাকে কিছু করতেই হবে এমন মাইন্ডসেটটি আমরা ˆতরি করতে পারিনা| অনেকে বাসায় রান্না করে অনলাইনে বিক্রি করছে| কারও হয়তো বিদেশে কেউ থাকেন, তাঁর মাধ্যমে বিদেশ থেকে কসমেটিক্স, পারফিউম এনে বিক্রি করছে| তাঁরা পারছে, কারণ তাঁদের মনে ব্যবসা করার অদম্য ইচ্ছা রয়েছে|


একজন নারী ইচ্ছে করলে অনলাইনে বাচ্চাদের পড়ানোর কাজ করতে পারে| ইচ্ছে করলে তিনি অনলাইনে বিভিন্ন বিষয় শেখাতে পারে| ইচ্ছে করলে দশজনের সঙ্গে কথা বলে ব্যবসায়ের নতুন কোনো আইডিয়া ডেভেলপ করতে পারে| সমস্যা হলো এই ইচ্ছাশক্তিটার বড় অভাব আমাদের দেশে| একজন নারীকে উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ী হওয়ার জন্য উচ্চশিক্ষিত হতেই হবে এমন নয়| বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবীতে এমন অনেক উদ্যোক্তা রয়েছেন যাঁরা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে খুব বেশি পড়ালেখা করেননি| কিন্তু তাঁদের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার প্রচন্ড ইচ্ছাশক্তি ছিল| আর সেটাই তাঁদেরকে উদ্যোক্তা হতে সাহায্য করেছে|


লেখার বিষয়বস্তু একান্তই লেখকের নিজস্ব মতামত|


ড. মোশাররফ হোসেন

এইচআর অ্যাডভাইজার, আইসিডিডিআরবি

প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ হিউম্যান রিসোর্স অর্গানাইজেশনস

প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ সোসাইটি ফর হিউম্যান রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট

সাবেক প্রেসিডেন্ট, এশিয়া প্যাসিফিক ফেডারেশন অব হিউম্যান রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট

এইচআর অ্যাডভাইজার, আইসিডিডিআরবি প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ হিউম্যান রিসোর্স অর্গানাইজেশনস প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ সোসাইটি ফর হিউম্যান রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট সাবেক প্রেসিডেন্ট, এশিয়া প্যাসিফিক ফেডারেশন অব হিউম্যান রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট এইচআর অ্যাডভাইজার, আইসিডিডিআরবি প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ হিউম্যান রিসোর্স অর্গানাইজেশনস প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ সোসাইটি ফর হিউম্যান রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট সাবেক প্রেসিডেন্ট, এশিয়া প্যাসিফিক ফেডারেশন অব হিউম্যান রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট

শেয়ার করুন:

এই ক্যাটাগরির আরও নিবন্ধ

Global Before Footer