আলজেরিয়া-বাংলাদেশ
দুই দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য একটি গ্রীন ফিল্ড
আফ্রিকা মহাদেশের সবচেয়ে বৃহত্তর এবং বিখ্যাত সাহারা মরুভূমির দেশ আলজেরিয়া। ১৩২ বছর ফরাসী শাসনের পর দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ১৯৬২ সালে আলজেরিয়া স্বাধীনতা লাভ করে। আফ্রিকা এবং ইউরোপ মহাদেশ মধ্যবর্তী ভূমধ্যসাগরীয় এই দেশটির সাথে আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর আলজেরিয়া প্রথম আরব দেশ যারা আমাদের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। সেই দিক বিবেচনায় আলজেরিয়া আমাদের অনেক পুরোনো বন্ধু। কিন্তু বিভিন্ন কারণে আলজেরিয়ার সাথে আমাদের বাণিজ্য সম্পর্ক তেমন একটা গড়ে উঠেনি। আলজেরিয়া সম্পর্কে খুব বেশি জানার সুযোগ আমাদের হয়নি। সদ্য গঠিত বাংলাদেশ-আলজেরিয়া বিজনেস ফোরামের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো আমরা আলজেরিয়া ভ্রমণ করে আসি। যেহেতু আমি দীর্ঘদিন ধরে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যবসা সম্প্রসারণ নিয়ে এই সেক্টরে কাজ করছি, এ কারণে দূতাবাসের সহযোগিতায় এই বিজনেস ট্রিপ থেকে আমার চমৎকার কিছু ধারণা তৈরি হয়েছে। বাজারজাতকরণ ম্যাগাজিনের সম্পাদক নজীবুল্লাহ ভাইয়ের অনুরোধে আমার এই লেখার অবতারণা। আগে বাংলাদেশে আলজেরিয়ার দূতাবাস খুব ছোট্ট পরিসরে ছিল। কিন্তু এখন এটি একটি পূর্ণাঙ্গ দূতাবাসে রুপ লাভ করেছে। এখন ভিসা দিচ্ছে। বিজনেস ফোরাম গঠন করছে। আগের চেয়ে যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে মনে হচ্ছে আলজেরিয়ার সাথে বাংলাদেশের একটি ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরি হতে যাচ্ছে। এখানে একটি কথা বলে রাখা ভালো বাংলাদেশ যে কোনো দেশের জন্য অনেক বড় একটি মার্কেট। প্রায় ২০ কোটি মানুষের বসবাস এ দেশে। মানুষের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করলে এখানে আর্থিক সক্ষমতার ধাপ অনেকগুলো। ফলে কম দামি পণ্যের বাজার যেমন রয়েছে, তেমনি অতি উচ্চমূল্যের পণ্যের বাজারও রয়েছে। এটাই যে কোনো দেশের ব্যবসায়ীদের আকৃষ্ট করার জন্য যথেষ্ট ভূমিকা পালন করে।
আলজেরিয়া বাংলাদেশীদের বিনিয়োগকারী হিসেবে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে। বর্তমানে বাংলাদেশে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত হিসেবে যিনি দায়িত্ব পালন করছেন তিনি এই দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য নিয়ামক শক্তি হিসেবে কাজ করছেন। তিনি মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন দুই দেশের ব্যবসায়ীদের যদি এক টেবিলে বসানো যায়, আলোচনা শুরু করা যায়, তাহলে সেখান থেকে ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন একটি দিগন্ত উন্মোচন হবে। এই লক্ষ্য নিয়ে তিনি দুই দেশের ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে একটি ফোরাম গঠন করেছেন। পরবর্তী পর্যায়ে তাঁর উদ্যোগেই আলজেরিয়ার ব্যবসায়ীরা আমাদের এই ফোরামের সদস্যদের আলজেরিয়া ভিজিট করার জন্য আমন্ত্রণ জানান। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা আলজেরিয়া গিয়েছিলাম। ঠিক ওই একই সময়ে ওখানে ইন্টার-আফ্রিকা ট্রেড ফেয়ার চলছিল। ফলে সেটাও আমাদের দেখার সুযোগ হয়েছিল।
ইন্টার-আফ্রিকা ট্রেড ফেয়ার আফ্রিকার মধ্যে সবচেয়ে বড় মেলা। আমি আগেই উল্লেখ করেছি আলজেরিয়া সম্পর্কে আমাদের তথা এদেশের মানুষদের খুব বেশি ধারণা নেই। অধিকাংশ মানুষ শুধু আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্স এ পর্যন্তই জানেন। কিন্তু আমরা যাওয়ার পর আমাদের ধারণা পুরো বদলে গেল। আলজেরিয়া অনেক বড় একটি দেশ। এর আয়তন ২৩,৮১,৭৪০ বর্গ কিলোমিটার। লোকসংখ্যা ৪ কোটি ৪০ লক্ষ। মানচিত্রে দেশটির আয়তন দেখলে অবাক হতে হয়। বাংলাদেশের সঙ্গে তুলনা করলে বোঝা যায় দেশটি বাংলাদেশের তুলনায় কত বড়। বাংলাদেশের আয়তন ১,৩০,১৭০ বর্গ কিলোমিটার। অর্থাৎ বাংলাদেশের তুলনায় ১৮ গুণের চেয়েও বড়। আলজেরিয়ার চারপাশে আফ্রিকার ছয়টি দেশ রয়েছে। দেশগুলো হলো মরক্কো, তিউনিশিয়া, লিবিয়া, নাইজার, মালি, এবং মৌরিতানিয়া। আলজেরিয়ার সাথে ইউরোপের যথেষ্ট ভালো যোগাযোগ রয়েছে। ফলে আফ্রিকা-ইউরোপ মিলে আলজেরিয়া হয়ে উঠেছে ব্যবসায়ের জন্য একটি শক্তিশালী কানেক্টিং হাব। ইউরোপের সাথে সম্পর্কের বড় একটি কারণ হলো আলজেরিয়া এক সময় ফ্রান্সের কলোনী ছিল। আমরা যদি আলজেরিয়ার সাথে কোনো বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি তাহলে ওই পথ ধরে একদিকে যেমন ইউরোপকে কানেক্ট করা যাবে, আবার অন্যদিকে পুরো আফ্রিকাকে কানেক্ট করা যাবে।
আলজেরিয়ার সাথে আমাদের এখনো সরাসরি কোনো বিমান ফ্লাইট শুরু হয়নি। তবে দুই দেশের মন্ত্রণালয় পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। আমরা আশা করি এই যোগাযোগের ধারাবাহিকতায় আলজেরিয়ার সাথে আমাদের ফ্লাইট চালু হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়িক সম্পর্কেও নতুন দিনের সূচনা হবে। ফ্লাইট চলাচলের ক্ষেত্রে প্রথমে হয়তো কার্গো ফ্লাইট শুরু হবে। এরপর প্যাসেঞ্জার ফ্লাইটও চালু হবে।
ইন্টার-আফ্রিকা ট্রেড ফেয়ার দেখার কারণে আফ্রিকার অন্যান্য দেশে উৎপাদিত পণ্য সম্পর্কেও আমাদের ধারণা লাভ করার সুযোগ হয়েছে। এই মেলাটি অনেক বড় পরিসরে হয় বিধায় আফ্রিকার সকল দেশ তাদের পণ্যের ডিসপ্লে করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে। আমাদের সুযোগ হয়েছিল আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের পণ্য দেখার এবং খোঁজখবর নেওয়ার। আমি আগেই উল্লেখ করেছি আলজেরিয়া সম্পর্কে আমাদের খুব বেশি ধারণা ছিল না। আলজেরিয়ার রাজধানী এবং সাহারা মরুভূমি এই ছিল আমাদের জানার পরিধি। তবে আমরা যাঁরা গিয়েছিলাম তাঁদের প্রত্যেকের কোনো না কোনো দিক নিয়ে মনের মধ্যে ভাবনা ছিল। আমার আগ্রহ ছিল আলজেরিয়ার পর্যটনশিল্প নিয়ে। আবার কারও কারও আগ্রহ ছিল আলজেরিয়ার খেজুর নিয়ে। আমাদের দেশে খেজুরের একটি বিশাল বাজার রয়েছে। আলজেরিয়ার খেজুর এদেশে আসে দুবাই হয়ে। ফলে খরচ বেশি পড়ে, দামও বেশি পড়ে। কিন্তু আলজেরিয়ার সাথে যদি সরাসরি কার্গো বিমান যোগাযোগ স্থাপন করা যায় তাহলে এই খেজুর আলজেরিয়া থেকে সরাসরি দেশে আনা সম্ভব। আমাদের দেশে এডুকেশন সেক্টর নিয়ে কাজ করছে এমন একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা গিয়েছিলেন। আবার আবাসন খাতে ব্যবসা করছেন এমন কর্মকর্তাও ছিলেন। ফলে প্রত্যেকে তাঁর নিজ নিজ অবস্থান থেকে ব্যবসায়ের নানা দিক পর্যালোচনা করার সুযোগ পেয়েছেন। আমার কাছে মনে হয়েছে আলজেরিয়া আমাদের জন্য ব্যবসায়ের দৃষ্টিকোণ থেকে একটি গ্রীন ফিল্ড। এটি একটি আরব দেশ। কিন্তু আরবি তাঁদের একমাত্র ভাষা নয়। এক সময় এটি ফ্রান্সের কলোনি ছিল। ফলে এখানকার প্রচুর মানুষ ফ্রেঞ্চ ভাষায় কথা বলেন। তাঁদের খাদ্য তালিকার ৮০ ভাগ ইউরোপের খাদ্য, বাকি ২০ ভাগ আরব খাদ্য। তাঁদের পোশাক, চলাফেরা সবই ইউরোপিয়ানদের মতো। যাঁরা বয়স্ক মানুষ, পুরোনো দিনের মানুষ, তাঁদের মধ্যে আরব সংস্কৃতি, আরব পোশাক, আরব খাবারের প্রতি আগ্রহ দেখা যায়।
আলজেরিয়া তিনটি সংস্কৃতির একটি দেশ। একদিকে আফ্রিকার প্রভাব রয়েছে। আবার ইউরোপের প্রভাবও রয়েছে। আর সেই সাথে আরব দেশ হিসেবে এরাবিয়ান প্রভাব সেটাও রয়েছে। ফলে তিন সংস্কৃতির চমৎকার এক দেশ হিসেবে আলজেরিয়া আবির্ভূত হয়েছে। সম্প্রতি দেশটির অর্থনীতি উন্মুক্ত হওয়ার কারণে আলজেরিয়া এখন এশিয়ামুখী হয়েছে। বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের মূল কারণ হলো দুটি দেশই মুসলিম। ফলে সংস্কৃতির কিছু জায়গায় আমাদের সাথে আলজেরিয়ার মিল রয়েছে। ইতোমধ্যে উল্লেখ করেছি বাংলাদেশ যে কোনো দেশের জন্য একটি বড় বাজার। এই বিষয়টিও আলজেরিয়া গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।
আলজেরিয়া আমাদের তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য বড় একটি বাজার হতে পারে। আলজেরিয়ার সাথে আমাদের সরাসরি তেমন কোনো বাণিজ্য সম্পর্ক নেই। আমার জানা মতে আলজেরিয়ায় আমরা কোনো গার্মেন্টস সামগ্রী সরাসরি রপ্তানি করিনা। কিন্তু আলজেরিয়ার বিভিন্ন শোরুম আমাদের গার্মেন্টস সামগ্রী দিয়ে ভরা। ইউরোপের ব্যবসায়ীরা আমাদের পণ্য দিয়ে আলজেরিয়ার মার্কেট দখল করেছে। আমরা যদি আলজেরিয়ার সাথে সরাসরি বাণিজ্য সম্পর্ক স্থাপন করতে পারি তাহলে অবধারিতভাবে এই ব্যবসাটি বৃদ্ধি পেতে পারে।
আমরা লক্ষ্য করেছি আলজেরিয়ায় বাংলাদেশের চমৎকার ইমেজ রয়েছে। এর কারণ হলো প্রথমত, বাংলাদেশ একটি মুসলিম কান্ট্রি। দ্বিতীয়ত, ওই দেশের বিভিন্ন আউটলেটে বাংলাদেশের গার্মেন্টস প্রোডাক্ট বিক্রি হচ্ছে। আরেকটি কারণ হলো আমাদের সেনাবাহিনী সম্পর্কে ওরা খুব ভালো ধারণা রাখে। আলজেরিয়ার আশেপাশের দেশগুলোর নাগরিকদের সাথে আলজেরিয়ার নাগরিকদের সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বেশ ভালো যোগাযোগ রয়েছে। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে জাতিসংঘ মিশনে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী কাজ করছে। তাঁদের কাজগুলো ওই সকল দেশের নাগরিকেরা ফলাও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করছে। আলজেরিয়ার জনগণ সেগুলো দেখছে এবং আমাদের সেনাবাহিনী সম্পর্কে উচ্চ ধারণা পোষণ করছে। এছাড়া আলজেরিয়ার অনেক নাগরিক তাবলীগ জামাতের সাথে জড়িত। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বাংলাদেশে এসেছেন। আবার আমাদের দেশেরও কেউ কেউ আলজেরিয়ায় গিয়েছেন। এটাও আলজেরিয়ার মানুষের কাছে ভালোলাগার একটি বিষয়।
আমি ব্যক্তিগতভাবে আলজেরিয়ার পর্যটনশিল্প নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছি। এদেশের মানুষের কাছে পর্যটন বলতে দেশের বাইরে কম বাজেটে যেতে হলে ভারত, নেপাল, মালদ্বীপ, অথবা থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া। আর যাঁদের অর্থবিত্ত বেশি তাঁরা ইউরোপ, কানাডা, এবং আমেরিকাকে বেছে নেয়। আলজেরিয়াও ভালো একটি পর্যটন স্পট হতে পারে। আমরা সাহারা মরুভূমির সাথে সেভাবে পরিচিত নই। মরুভূমিতেও অনেক কিছু দেখার এবং জানার রয়েছে। এছাড়া আলজেরিয়া একসময় রোমানদের শাসনে ছিল। ফলে ওখানে রোমানদের অনেক স্থাপত্যের নিদর্শন আজও রয়েছে। একজন পর্যটক হিসেবে এগুলোও দেখার বিষয়। আলজেরিয়ার রয়েছে বিস্তীর্ণ ভূমি। আলজেরিয়ার সরকার কৃষিজমি হিসেবে এগুলো ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশীদের দিতে ইচ্ছুক। তাঁদের ভাবনা ওই সকল জমিতে কৃষিকাজ হবে। উৎপাদিত পণ্য তাঁরা কৃষকদের নিকট থেকে কিনে নেবে। মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশে বাংলাদেশের কৃষিজ পণ্য উৎপাদন করে এদেশের কৃষকেরা বেশ সুনাম অর্জন করেছে। এ কারণে আলজেরিয়া সরকার মনে করে বাংলাদেশ থেকে যদি কৃষকেরা আলজেরিয়ায় গিয়ে কৃষি কাজ করে তাহলে সেটা দুই দেশের জন্যই কল্যাণকর হবে। গত বছর আমরা আমাদের ফোরাম থেকে আমের মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বিভিন্ন প্রকার আম সংগ্রহ করে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূতকে উপহার দিয়েছিলাম। তিনি আমের ঘ্রাণ এবং মিষ্টতা দেখে অভিভূত হয়েছিলেন। তিনি এই আমচাষীদের আলজেরিয়ায় নিয়ে আমবাগান করতে ইচ্ছুক। আলজেরিয়ার সাথে আমরা যদি ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি তাহলে সেটা দুই দেশের জন্যই ভালো ফলাফল বয়ে আনতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশের জন্য সেটা অধিক লাভজনক হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
আলজেরিয়ার প্রচুর মানুষ ইউরোপিয়ান স্টাইলের পোশাক পড়েন। খাদ্যের তালিকায় ইউরোপের খাবারই বেশি। কিন্তু পারিবারিক শৃঙ্খলাবোধ বিবেচনা করলে নিঃসন্দেহে বলতে হবে প্রতিটি পরিবার রক্ষণশীল মুসলিম পরিবার। তাঁরা তাঁদের আদর্শে বিশ্বাসী। সন্ধ্যার পর রাস্তাঘাটে পুরুষ ছাড়া কোনো মহিলাদের দেখা যায় না। অনেকটা আমাদের দেশের আশির দশকের সমাজব্যবস্থার মতো। ওই দেশের সরকারের প্রতি জনগণের অকুন্ঠ সমর্থন রয়েছে। সরকার থেকে জনগণের জন্য যা কিছু করছে তা পেয়েই জনগণ সন্তুষ্ট। মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ¯েœহ, মায়া-মমতা সবই রয়েছে। ওদের ট্রাফিক ব্যবস্থা অত্যন্ত চমৎকার। রাস্তাঘাটে গাড়ির হর্ন বাজাতে দেখিনি। কাউকে নিয়ম-শৃঙ্খলা ভাঙতেও দেখিনি। দেশটি ইউরোপের মতো উন্নত নয়। কিন্তু মানুষের চলাফেরা, শৃঙ্খলাবোধ ইউরোপের মতো। এটা আমাকে খুব অবাক করেছে। রাস্তার মধ্যে কখনো ট্রাফিক পুলিশ দেখিনি। ট্রাফিক সিগন্যাল দেখিনি। অথচ রাস্তার মধ্যে অনেক পাহাড়ী বাঁক রয়েছে। তারপরেও রাস্তায় কোনো এক্সিডেন্ট হয় না। কারণ গাড়িচালকেরা কখনো নিজস্ব লাইন মিস করে না। রাস্তাঘাট অত্যন্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। এই বিষয়গুলো আমাদের সকলকে বেশ মুগ্ধ করেছে। আগেই বলেছি দেশটি ইউরোপের মতো উন্নত নয়। অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনা করলে আমাদের চেয়ে কিছুটা উন্নত। কিন্তু তাঁদের চিন্তাভাবনা, সিস্টেম, পরিকল্পনা আমাদের চেয়ে অনেক উন্নত।
আলজেরিয়া শুধু আমাদের জন্য ভার্জিন কান্ট্রি নয়। বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল থেকেও খুব বেশি মানুষ ওই দেশে যায়নি। ফলে কোনো বিদেশি দেখলে ওরা উচ্ছ্বসিত হয়। ছোট ছোট বাচ্চারা সেলফি তুলতে আসে। অটোগ্রাফ নিতে আসে। এটা আমাদের ভীষণ আনন্দ দিয়েছিল। অনেক শিশুরা যখন আমাদের সাথে এসে ভাঙ্গা ভাঙ্গা ইংরেজিতে কথা বলছিল তখন ওদের বাবা-মা সেগুলো ভিডিও করছিল। এগুলো একটি ভালোলাগার বিষয় ছিল। ওই দেশের জলবায়ু বেশ গরম। তাপমাত্রা ৪০-৪২ ডিগ্রি খুবই স্বাভাবিক বিষয়। এর চেয়েও ওপরে উঠে যায়। কিন্তু দেশটি ভূমধ্যসাগরের পাশে থাকার কারণে সাগরের বাতাস সব সময় দেশটির ওপর দিয়ে বয়ে যায়। এটা চরম আবহাওয়া থেকে মানুষকে রক্ষা করে। ফলে তাপমাত্রা অসহনীয় মনে হয় না।
অচিরেই আমাদের প্রতিষ্ঠান ট্রাভেল বাংলা ডটকম এর উদ্যোগে দুই দেশের ভ্রমণ পিপাসু মানুষদের নিয়ে গ্রুপ ট্যুর আয়োজনের চিন্তাভাবনা শুরু করেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ আলজেরিয়া বিজনেস ফোরামের উদ্যোগে বিজনেস ডেলিগেশন বিনিময় কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।
নাফিজুল কাদীম
ফাউন্ডার ডিরেক্টর, ট্রাভেল বাংলা ডটকম
চীফ কনসালটেন্ট, ইনোভেশন এসোসিয়েট
ইসি সদস্য, বাংলাদেশ-আলজেরিয়া বিজনেস ফোরাম