Global Header Bottom
শিরোনাম:"দক্ষ জনবলই প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় সম্পদ" — মানবসম

"দক্ষ জনবলই প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় সম্পদ" — মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞের সাক্ষাৎকার

"দক্ষ জনবলই প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় সম্পদ" — মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞের সাক্ষাৎকার

বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক পরিবেশে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা (এইচআরএম) একটি প্রতিষ্ঠানের সফলতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। কর্মী নিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মী ধরে রাখার কৌশল নিয়ে কথা বলেছেন মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞ মো. আরিফ হোসেন।

প্রশ্ন: বর্তমান সময়ে এইচআরএম কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর: একটি প্রতিষ্ঠানের সফলতা মূলত তার কর্মীদের ওপর নির্ভর করে। প্রযুক্তি, পুঁজি বা অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ হলেও দক্ষ ও প্রতিশ্রুতিশীল জনবল ছাড়া এগুলোর কার্যকর ব্যবহার সম্ভব নয়। তাই কর্মীদের সঠিকভাবে পরিচালনা, প্রশিক্ষণ এবং উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে এইচআরএম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

প্রশ্ন: বর্তমানে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে?

উত্তর: আগের তুলনায় এখন নিয়োগ প্রক্রিয়া অনেক বেশি প্রযুক্তিনির্ভর হয়েছে। অনলাইন জব পোর্টাল, ভিডিও ইন্টারভিউ এবং এআই-ভিত্তিক স্ক্রিনিং টুল ব্যবহার করে দ্রুত ও কার্যকরভাবে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করা হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ উভয়ই কমছে।

প্রশ্ন: কর্মী ধরে রাখার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে?

উত্তর: শুধু ভালো বেতন দিলেই এখন কর্মী ধরে রাখা যায় না। কর্মীরা একটি ইতিবাচক কর্মপরিবেশ, শেখার সুযোগ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন এবং কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য চান। তাই প্রতিষ্ঠানগুলো এখন কর্মী কল্যাণ, প্রশিক্ষণ এবং নমনীয় কর্মনীতির ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

প্রশ্ন: কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর: অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তি এবং ব্যবসায়িক কৌশল দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। একজন কর্মী যদি নিয়মিত নতুন দক্ষতা অর্জন না করেন, তাহলে তিনি প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বেন। এজন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন কর্মসূচি পরিচালনা করা।

প্রশ্ন: কর্মক্ষেত্রে মানসিক সুস্থতা নিয়ে এখন অনেক আলোচনা হচ্ছে। এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?

উত্তর: মানসিক সুস্থতা এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অতিরিক্ত কাজের চাপ বা কর্মক্ষেত্রের নেতিবাচক পরিবেশ কর্মীদের উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দেয়। তাই প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন থাকা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা।

প্রশ্ন: আগামী কয়েক বছরে এইচআরএম খাতে কী ধরনের পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছেন?

উত্তর: আমি মনে করি প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়বে। ডেটা অ্যানালিটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অটোমেশন মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করবে। পাশাপাশি কর্মীদের অভিজ্ঞতা ও সন্তুষ্টিকে কেন্দ্র করে নতুন নতুন নীতি ও কৌশল গ্রহণ করা হবে।

প্রশ্ন: তরুণ এইচআর পেশাজীবীদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?

উত্তর: শুধু নিয়োগ বা প্রশাসনিক কাজ জানলেই হবে না। ব্যবসা সম্পর্কে ধারণা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং মানুষের আচরণ বোঝার ক্ষমতা থাকতে হবে। যারা শেখার মানসিকতা নিয়ে কাজ করবেন, তারাই ভবিষ্যতে এই খাতে সফল হবেন।

সাক্ষাৎকার শেষে আরিফ হোসেন বলেন, "একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত শক্তি তার মানুষ। তাই মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগ করা মানে প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যতে বিনিয়োগ করা।"

আমি যখন একজন কর্মীর নিকট থেকে বেস্ট আউটপুট প্রত্যাশা করব তখন অবশ্যই আমাকে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে ওই ধরনের একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে। আমাদের দেশে সমস্যা হলো পরিবেশ তৈরি না করেই আমরা প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা করি।

শেয়ার করুন:
Global Before Footer